1. admin@ourbhola.com : আমাদের ভোলা : আমাদের ভোলা
বোহেমিয়ানঃ ২য় পর্ব – ফারজানা সাদিয়া অনন্যা - আমাদের ভোলা
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
প্রিয় ভিজিটর, দ্বীপজেলা ভোলার বৃহত্তম ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম...

বোহেমিয়ানঃ ২য় পর্ব – ফারজানা সাদিয়া অনন্যা

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১
  • ১১১ বার পঠিত
বোহেমিয়ানঃ ২য় পর্ব – ফারজানা সাদিয়া অনন্যা

বোহেমিয়ানঃ ২য় পর্ব
লেখা: ফারজানা সাদিয়া অনন্যা
যুথি গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করে আপনি জানলেন কি করে আমি এখানে?
বলতে পারেন ম্যাজিক করে।

ম্যাজিক না ছাই,আমি পিছু নিয়েছিলাম আপনি দেখেছিলেন তাই বলতে পেরেছেন।

হুম

তাহলে ওটা বললেন কেনো?

এমনি।

বসবেন নাকি যেই পথ ধরে এসেছিলেন সেই পথ ধরেই বাড়ির দিকে যাবেন?

জানিনা,বলে যুথি ঠাই দাঁড়িয়ে আছে।
শুভ্র আর কথা বাড়ালো না একটা কালো বিড়ালকে ওর পাশে রেখে,পাথরের বেদীর ওপর বসে সিগারেট ধরিয়ে একের পর এক টান দেওয়া শুরু করে।
চাঁদটা আজ সুন্দর আলো ছড়াচ্ছে।জ্যোৎস্নার আলোয় আজ বিমোহিত চারিদিক।
সাথে আমিও।

যুথি এসে শুভ্রের পাশে থপ করে বসে রাগে গজগজ করতে করতে বলে আচ্ছা আপনি কি বলেন তোহ!

আমি মানুষ,আপনার কি তাতে কোনো সন্দেহ আছে?

হ্যাঁ অবশ্যই আছে।মেয়ে মানুষকে নিয়ে মানুষের আগ্রহের সীমা থাকে না কিন্তু সেখানে তুমি আমাকে এড়িয়ে চলছো!
আর এই আপনি আপনি কি লাগিয়ে রেখেছো!তুমি বলো।

আচ্ছা।শোনো যুথি আমার মনে হয় পৃথিবীর সকলের জটিল জিনিসের প্রতি আগ্রহ বেশি হয়।দেখোনা মানুষকে কি কখনো সহজ জিনিস নিয়ে দিনের পর দিন গবেষণা করতে দেখেছো!
আমার মনে হয় দেখোনি কারণ সহজ জিনিস নিয়ে মানুষের আগ্রহ কম।
নারী হলো একটি জটিল জিনিস।এদেরকে বোঝা পৃথিবীর সবচেয়ে জটিলতম কাজ।আমার আবার জটিল জিনিসের প্রতি আগ্রহ কম।
সিগারেট খাবে?

না আমি সিগারেট খাই না।

শহরের মেয়েরা আজকাল অধিকাংশ সিগারেট খাই।ভাবলাম তুমি খাও কি না!

আচ্ছা শুভ্র তুমি এখানে এসেছো কেনো?

জ্যোৎস্না বিলাস করতে।কেনো তুমি কি ভেবেছিলে?আমি তান্ত্রিক মন্ত্র সাধনার জন্য এসেছি!

তুমি বুঝলে কি করে?

যে কেউ এটাই ভাবে আমাকে নিয়ে।

কিন্তু জ্যোৎস্না দেখতে এখানে কেনো?

কৃত্রিমের মাঝে প্রকৃতির রূপ পুরোপুরি উপভোগ করা যায় না।

ঠিক বুঝলাম না।

তুমি হয়তো খেয়াল করোনি এখানে কোনো লোক সমাগম বাড়ি কিছুই নেই।
সামনে তাকিয়ে দেখো একটা পাহাড় আছে,নীলা পাহাড়।আর দেখো পাহাড়ের গা ঘেষে পড়ছে ঝর্ণা ধারা।চারিপাশে গাছ আর স্যাঁতসেঁতে মাটির গন্ধ।ঝি ঝি পোকার ডাক পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া ঝর্ণাধারার বিমোহিত সুর আর জোনাকির জ্বলা নেভা সব মিলিয়ে অপূর্ব প্রকৃতির রূপ।এখানে বসে প্রকৃতির রূপ যেভাবে তুমি উপভোগ করতে পারবে জানালা কিংবা ছাদে তুমি সেই আমেজটা পাবে না।
জ্যোৎস্না উপভোগ করার পূর্ব শর্ত তোমাকে তোমার মন মতো প্রকৃতি বেছে নিতে হবে যেখানে তুমি চাঁদটাকে মন থেকে ধারণ করতে পারবে।আমার দৃষ্টিতে এটা কৃত্রিমের মাঝে সম্ভব নয়।

শুভ্র আমার তোমাকে খুব চেনা চেনা মনে হয় কারণ কি?

আমরা একই ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট তাই হয়তো।

কি আমরা একই ইউনিভার্সিটিতে পড়ি! কই আগে কখনো তোহ আমাদের কথা হয়নি!তুমি প্রথমে বললেই পারতে।

প্রথমে বললে কি হতো?তুমি নিশ্চয় আমাকে মাথায় তুলে নাচতে না বা হাজী বিরিয়ানির বিরিয়ানি ট্রিট দিতে না নিশ্চয়!

তা করতাম না তবুও বলতে পারতে।

আমি প্রয়োজন মনে করিনি।

আমাকে চিনো তুমি?
হ্যাঁ।শুধু চিনি না তুমি যে ক্লাসের সব ছেলেদের ক্রাস গার্ল এটাও আমার অজানা নয়।তারপর তোমার বিষয়ে অনেক কিছুই জানি।

তা কি কি জানো?

বলতে ইচ্ছা করছে না।
শুভ্র আরেকটা সিগারেট ধরালো।পাঞ্জাবীর পকেট থেকে একটা পেন্সিল আর এক টুকরো কাগজ বার করে ছবি আঁকানো শুরু করে।
যুথি তুমি কি বাসায় রাগারাগি করে এসেছো?

তুমি কিভাবে জানলে?

ঐ যে ম্যাজিক করে।

উফফ তুমি আমাকে পাগল করে দিবে।
সত্যি কথা বলো।

তোমার রাগ আর গম্ভীরতা দেখে।

আমাকে একটু শেখাবে?

এগুলো শেখার জিনিস নয় যুথি উপলব্ধির বিষয়।

হঠাৎ শুভ্রের পকেটে ফোনটা বেজে উঠলো।
খুবই পুরোনো মডেলের একটা বাটন ফোন।রাবার জড়ানো।এতো ভালো অবস্থা সম্পন্ন মানুষের হাতে এমন একটা ফোন ব্যাপারটা ঠিক হজম হলো না যুথির।

ফোনটা রিসিভ করে শুভ্র বলে বলো বাবা।

কেমন আছিস বাবা?

ভালো।

খেয়েছিস?

হ্যাঁ।

আচ্ছা বয়স তোহ আর কম হলো না চাকরির চেষ্টা কি করছিস বাবা?

নাহ বাবা।আচ্ছা রাখি ভালো থেকো।

আরেহ শোন।

ফোনটা কেটে অফ করে শুভ্র পকেটে রাখে।আবার ছবি আঁকায় মন দেয়।

তোমার বাবা কল দিয়েছিলো?

কথা শুনে বুঝোনি?

হ্যাঁ বুঝেছি।

তাহলে জিজ্ঞেস করছো কেনো!

এমনি।তোমার বাবা কোথায় থাকে?

UK.

আচ্ছা তোমার ব্যক্তিগত গাড়ি থাকতে তুমি পায়ে হেঁটে,রিকশায় চলাচল করো কেনো?আবার তোমার বাবা ইউ কে থাকে তোমার হাতে এমন ফোন?

দেখো যুথি যা আছে সব আমার বাবার।আমার নিজের বলতে আছে রং তুলি আর ভবঘুরে জীবন।আমি এভাবেই চলতে পছন্দ করি।সমাজ আমাকে কিভাবে নিবে তাতে আমার যায় আসে না।আমি আমার মতো।
আর যুথি তুমি এসব ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরে আমার পাশে পাশে ঘুরো না।আমি অস্বস্তি বোধ করি।

ঠিক আছে।

শুভ্র এবার উঠে দাড়ায় এবং একাই হাঁটা শুরু করে বাড়ির দিকে যুথিকে ডাকার প্রয়োজন মনে করে না।

যুথি শুভ্রের অনুসরণ করে হেঁটে যায়।
এটা কি অদ্ভুত মানুষের পাল্লায় পড়লাম!কিন্তু যুথির ভালো লাগছে এই ভেবে যে লক্ষ্য কোটি সাধারণের মাঝে একজন ব্যক্তি যে কি না ব্যতিক্রম অমায়িক অসাধারণ।

বাড়ি পৌঁছে শুভ্রকে দেখতে পাই না যুথি পুরো বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজেও দেখা মেলে না শুভ্রের।
যুথির মনে ভয় চেপে বসে আচ্ছা শুভ্র আবার ভুত নয় তোহ!

চলবে…

বোহেমিয়ানঃ ১ম পর্ব – ফারজানা সাদিয়া অনন্যা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার ফেসবুক আইডি থেকে কমেন্ট করুন

উক্ত লেখাটি সোসাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো লেখা
© All rights reserved © 2021 আমাদের ভোলা
Development By MD Rasel Mahmud