1. admin@ourbhola.com : আমাদের ভোলা : আমাদের ভোলা
বাস্তবতা - তানজিমা আনজুম তারিন(বাবুনি) – আমাদের ভোলা
নোটিশ :
প্রিয় ভিজিটর, দ্বীপজেলা ভোলার বৃহত্তম ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম...

বাস্তবতা – তানজিমা আনজুম তারিন(বাবুনি)

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৭ জুন, ২০২১
  • ৭১ বার পড়েছেন
বাস্তবতা - তানজিমা আনজুম তারিন

মিশান অনেকক্ষণ একা এক বসে আছে..তার চোখে অন্যরকম একটা চিন্তাধারা কাজ করছে..বুঝতে চেষ্টা করছিলাম কি হয়েছে তার আসলে.. মনে হচ্ছে মানসিক কোনো প্রেসারে ভুগছে..আমি শুধু ভাবছিলাম ওর পাশে গিয়ে কি বসে জিগাসা করব কি হয়েছে নাকি??কি করব?? সহস করেই গেলাম.. “কিরে দোস্ত কি হয়ছে?” “কিছুনা” “কিসের এত মন খারাপ..চিল ব্রো” “যদি তুমি ছেলে হতে বাস্তবতা কত কঠিন বুঝতা।” “কি হয়েছে মিশান বলতো??” “জীবটা অনেক কষ্টের..” একটা ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত হওয়া খুব দরকার..জানো মেয়েদের ও প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার।

কিন্তু একটা মেয়ের যখন বিয়ে হয়ে যায় তখন তার স্বামী তাকে তার খাওয়া পরার সব কিছুর দায়িত্ব নেই..অত্যাচার সহ্য করতে হলেও সে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে খাওয়া দাওয়ার ভরন পোষন পেয়ে থাকে..একটা মেয়ে কেন স্বাবলম্বী হতে চাই জানো??” “কেন?” “কারন সে স্বাধীনতা চাই,স্বাধীন ভাবে বাচতে চাই..নিজের খেয়াল খুশি মতো চলার জন্য..তার টাকা পয়সার হিসাব জেনো কাউকে দিতে না হয় তার জন্য..কিন্তু স্বাবলম্বী না হলেও তারা চলতে পারে..আর স্বামী যদি অতি ভালো হয় তাহলে তো বলার কিছু নাই” “ছেলে দের ক্ষেএে আলাদা কি মিশান?” “আমি একটা ছেলে..মাথার ওপর হাজারো চিন্তা..পড়াশোনা এখন ও শেষ হয়নি কিন্তু এখনই চাকরির খবর মাথায় ঘুরছে..

মাথায় অনেক নেগেটিভ চিন্তা ধারা আসছে..চাকরির বাজারের অবস্হা খারাপ..ক বছর লাগবে চাকরি পেতে জানিনা..বাড়িতে মায়ের মুখে হাসি ফোটানো, বাবা কিছুদিন পর পেনশনে যাবেন বাবার দায়িত্ব..বাসাই ছোট ভাইটার হাজারো আবদার পূরন আর তার পড়াশোনার খরচ.. সারাদিন নিজের পড়াশোনা করে সন্ধ্যা বেলায় টিউশনি করে বাসায় এসে সকলের হাসি মুখটা দেখে মনে হয় এই হাসি মুখ টা আমাকে সারাজীবন ধরে রাখতে হবে..তাদের সেই হাসি মুখের মাঝে আমার জন্য লুকিয়ে আছে হাজারো ভালোবাসা..তাদের মুখে অদ্ভুত এক মায়ার চিহ্ন পাচ্ছি..আর দেখতে পাচ্ছি অনেক স্বপ্ন..সব স্বপ্ন পূরন আমাকেই করতে হবে” “এত কষ্ট লুকিয়ে রাখো নিজের মাঝে?” “হুহ..আর কষ্ট” “কেনো?”

“একটা ছেলে যখন মোটামুটি এসব বিষয়ে ভাবতে ভাবতে মানসিক প্রেসারে ভোগে তখন সারাদিন ক্লান্ত,ভালো লাগা, ভালোবাসা দুর করার জন্য একজন প্রিয় মানুষ লাগে..তার প্রিয় মানুষটা তার খবর রাখেও না..সারাদিন কি কি করলাম সেইটা শুনতে চাইনা।।জানতে চাই আমার কল ধরতে লেট কেনো হলো? আমি খেয়েছি কি শুনতে চাইনা..শুনতে চাই আমাকে কেন আজ রেস্টুরেন্ট এ নিয়ে যাওনি??আমি কি কিনলাম কি না সেটা জানতে চাইনা.. জানতে চাই কেনো তাকে টেডি বিয়ার কিনে দিতে পারিনি..”

“সব মেয়ে কি এক হয়?” “সব মেয়ে এক হয়না..তবে আমাদের মতো ছেলেদের কপালে এমন কিছুই মেয়ে জোটে যারা ফেসবুকে তাদের ফেক বার্থডে ডেট দিয়ে রাখে..অনেক কষ্ট করে নিজে না খেয়ে তার জন্য টাকা জমায়ে তার জন্য ফুল,বার্ডডে কার্ড, কেক আর গিফট নিয়ে রাত ১২টার সময় তার বাসার নিচে যায় তাকে উইশ করার জন্য তখন সে বলে “আজ তো আমার জন্মদিন না..ঠিক আছে আর দুদিন পরেই আমার জন্মদিন তখন আমার বন্ধু বান্ধব সহ সকলকে ট্রিট দিও”হ্যা আমাদের কপালে এমন কিছু মেয়ে জোটে যাদের প্রতিদিন ডেটিং এ যেতে হয়..যারা কল দিয়ে শুধু কল দিয়ে বাবু খেয়েছো ই জিগাসা করে.. বাসার সবাই কেমন আছে কখনো জিগাসা করেইনা।

আমি ইদে শপিং করলাম কি তার দেখার দরকার না, পরিবারের। জন্য কিছু কিনলাম কি না তাও দেখার দরকার,তার দরকার আমি কেনো তাকে শপিং করে দিলাম না. সেই মেয়েকে নিয়ে আমি কি করে সারাটাজীবন পার করার কথা চিন্তা করব যে মেয়ে আমাকে বুঝে না..আমার পরিবারের প্রতি তার কোনো দায়িত্ববোধ নেই..তার পরেও তার হাজার টা আবদার মেনে নিয়ে তার সাথে রিলেশন টিকিয়ে রাখতে হয়” “এটা তো সব ছেলের দায়িত্ব” “হুম দায়িত্ব বলেই তো হাজারটা স্বপ্ন ভেঙ্গে ফেলতে হয় পরিবারের জন্য,ভালোবাসার মানুষের জন্য..প্রতিটি কষ্ট সহ্য করেও একটা ছেলে যখন সব কিছু নিয়ে আবার শুরু করে জীবনকে পরিবর্তন করতে তখনই ছেলেটা সমাজের কাছে খারাপ..সব কিছু শেষ করেই বেলা শেষে হাসি মুখে ঘরে ফিরি তাদের হাসি মুখের চিহ্ন টা দেখার জন্য…

ওই হাসি মুখ গুলো যে খুব দামী” মিশানের কথা শুনে আমি রীতি মতো অবাক হয়ে আছি..আমি শুধু চুপচাপ শুনছিলাম..আমি আবিষ্কার করলাম অজান্তেই আমার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে এক এক বিন্দু পানি… এই কান্না টা যদি মিশানের হতো তাহলে হয়ত তার প্রতিটি কান্নার বিন্দুতে থাকতো প্রচুর আবেগ,কিছু ভাঙ্গা স্বপ্ন,ভালোবাসার কষ্ট আর কিছু দামি হাসি

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার ফেসবুক আইডি থেকে কমেন্ট করুন

উক্ত লেখাটি সোসাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো লেখা
© All rights reserved © 2019 আমাদের ভোলা
Developed BY Mohona IT