1. admin@ourbhola.com : আমাদের ভোলা : আমাদের ভোলা
গুমোট হাওয়া - ফারজানা সাদিয়া অনন্যা – আমাদের ভোলা
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
প্রিয় ভিজিটর, দ্বীপজেলা ভোলার বৃহত্তম ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম...

গুমোট হাওয়া – ফারজানা সাদিয়া অনন্যা

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১
  • ৯২ বার পঠিত
গুমোট হাওয়া - ফারজানা সাদিয়া অনন্যা

গুমোট হাওয়া – ফারজানা সাদিয়া অনন্যা

আজ রাতের মধ্যের একটা কুমারী মেয়ে আমার চাই। গুরুর সিদ্ধি লাভ আমাকে করতেই হবে না হলে এতোদিনের সাধনা সব বিফলে চলে যাবে। আমি আরিয়ান গত তিন বছর ধরে আমি গড লুচিফারের পূজারী,এ পর্যন্ত তন্ত্র-মন্ত্র মারণ উচাটন সবই আয়ত্তে এনেছি, কিন্তু গুরুর সিদ্ধি লাভ করতে পারিনি। আজ রাত আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা রাত। আজ রাতের মধ্যেই আমাকে কুমারী মেয়ে লাশ জোগাড় করে গুরুর কাছে নিয়ে যেতে হবে।

সন্ধ্যা রাত থেকে তুমুল ঝড় বৃষ্টি,আজই একটা কুমারী মেয়েকে বান্দরবানের আলিকদমের বাবরা পাড়া গোরস্থানে কবর দেওয়া হয়েছে। ভাবছি ওইটাকেই তুলে আনবো,শুনেছি মেয়েটি নাকি আত্মহত্যা করেছে।তাজা প্রাণ সবে সবে গিয়েছে ভালোই হবে। গুরুর সিদ্ধিলাভের জন্য আজ তিনটা বছর নিজ গ্রাম টাঙ্গাইল ছেড়ে আজ আমি বান্দরবান।আমাকে সিদ্ধি লাভ করতেই হবে যেকোনো মূল্যে। সে যায় হোক আমি যেখানে থাকি সেখান থেকে পায়ে হেঁটেই গোরস্থানে যাওয়া যায়। আজ যে পরিমাণে বৃষ্টি তাতে হেঁটে যাওয়া যাবে না। গ্যারেজ থেকে গাড়ি বার করে গোরস্থানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।

সিদ্ধিলাভের আশায় এ পর্যন্ত কিশোর কিশোরী শিশু সহ ৬৮ জনকে নিজ হাতে হত্যা করেছি,আর ২৫৬ জনের লাশ নিজ হাতে খুড়ে তুলে এনেছি। আমার হৃদয় এতোটাই পাষাণ হয়ে গিয়েছে যে কোনো লাশের রক্তে আমার মন কাঁদে না,বরং তাজা রক্তের গন্ধ আমার কাছে আলিশান হোটেলের থাই স্যুপের মতো সুস্বাদু খাবার।দুই চারবার তাজা রক্ত পান করার সৌভাগ্যও হয়েছিলো বটে সে স্বাদ আমার মুখে লেগে আছে এখনো। গাড়িটা গোরস্থান গেটের সামনে দাড় করিয়ে পাহারাদারকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিলাম। ভেতরে ঢুকে মন্ত্র পড়তে পড়তে কবর খুড়ে লাশটিকে উপরে তুলে,কাফনের কাপড়টা খুলে উলঙ্গ করে টর্চটা দিয়ে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিলাম, নাহ কোথাও কাটাছেঁড়ার দাগ নাই নিয়ে যাওয়া যাবে।

লাশটিকে কোলে তুলে গাড়িতে বসিয়ে বাসায় নিয়ে এলাম। লাশটিকে গোসল করিয়ে লাল শাড়ি পরিয়ে,দিলাম দারুণ সাজসজ্জা। গুরু ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বসে আছেন চারিপাশে কঙ্কালের হাড়গোড় মাথা।আর ছাগলের তাজা রক্ত দিয়ে আঁকা ডেভিল স্টার সবমিলিয়ে গা ছমছমে পরিবেশ,আমি বহু বছর ধরে এগুলোতে অভ্যস্ত তাই আমার কোনো অসুবিধা হয় না।আমি এক পা দু পা করে এগোচ্ছি,আমার উপস্থিতি টের পেয়ে গুরু বলে উঠে কিরে এনেছিস আমার শিকার? মেয়েটিকে একটি পাথরের বেদীর উপর শুইয়ে দিয়ে বললাম গুরু সব ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে।

উনি আসন ছেড়ে উঠে মেয়েটির শরীরের দিকে তার লোলুপ দৃষ্টি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো। আমাকে একটি আসন পেতে বসতে দিয়ে গুরু আমাকে আদেশ দিলেন আমি যেনো কামরূপ কামাখ্যার মন্ত্র উল্টো পাঠ করি। আমি মন্ত্র জপে চলেছি গুরুর হাতের ইশারায় লাশটির কাপড় এক এক করে খুলতে শুরু করেছে। লাশটিকে পুরোপুরি উলঙ্গ করে তরুণীর বক্ষের মাঝ বরাবর নাক ডুবিয়ে পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করতে শুরু করলো গুরু। লাশের সাথে গুরু গভীর আলিঙ্গনে লিপ্ত হলো। পরপর তিন বার আলিঙ্গনের পরে গুরু উঠে দাঁড়ায়।

মহিষের রক্তে রক্ত স্নান সেরে গুরু মেয়েটির সামনে দাড়িয়ে মন্ত্র জপ শুরু করলো,আমি তখনো মন্ত্র থামাইনি। গুরুর ইশারাই মেয়েটির গলা থেজে নাভি পর্যন্ত চিরে দুই ভাগ হয়ে গেলো আর হৃদপিণ্ডটা শূন্য ভাসতে শুরু করলো।আমার মন্ত্র শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আমি উঠে দাড়িয়ে হৃদপিণ্ড দুই হাতে চেপে রাক্ষসের মতো করে ভক্ষণ করতে লাগলাম। এ পর্যন্ত যতগুলো দেহ আমি এনেছি তার সবের হৃদপিণ্ড গুরু আমাকে ভক্ষণ করতে দিয়েছেন। মাথাটা কেটে দুই খন্ড করে খুটে খুটে মগজ খাচ্ছেন গুরু। আগামী কাল অমাবস্যা আমার একটি বাচ্চা শিশু চাই বলির জন্য।

আমি পৈশাচিক হাসি হেসে ব্যবস্থা হয়ে যাবে গুরু। আমি বেরিয়ে গেলাম। যেহেতু সারারাত কাজ করেছি আমি প্রচুর ক্লান্ত রুমে এসে গোসল করে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ঘুমিয়ে গেলাম। আমার মনে হচ্ছে আমার চারিপাশে অন্ধকার কালো ধোঁয়া শতশত আত্মার ভিড় আমাকে শ্বাসরোধ করে মারার চেষ্টা করছে আর একটা মেয়ে আমার দিকে এগিয়ে এসে আমার বুক থেকে কলিজাটা ছিড়ে বার করছে কিন্তু আমি চেয়ে চেয়ে দেখছি,আমার দেহ যেনো নিথর হয়ে আছে। ঘুম থেকে হুড়মুড়িয়ে উঠে দেখি সন্ধ্যা ৭ টা বেজে গিয়েছে শরীর থেকে দরদর করে বেয়ে পড়ছে ঘাম।

রূপে অতুলনীয় দ্বীপ জেলা ভোলার চর কুকরি-মুকরি

ওহ স্বপ্ন ছিলো,আমাকে এক্ষুনি বেরোতে হবে বাচ্চা শিশুর খোঁজে। রাস্তায় জোর স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছি হঠাৎ একটু অন্যমনস্ক থাকায় সামনের একটা বাইকের পেছনে মেরে দিলাম গাড়িটা। বাইকে ছিলো বাবা মা আর একটা ৩/৪ বছর বয়সী কন্যা। বাবা মা গুরুতর আহত জ্ঞান নেই সেদিকে আমার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। আমি বাচ্চাটার দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম বাচ্চাটা বেঁচে আছে। মনে মনে গড লুচিফারকে ধন্যবাদ দিয়ে বাচ্চাটা কোলে তুলে,গাড়িতে স্টার্ট দিলাম। গুরুর কুঠিরে পৌঁছে তার এক শিষ্যের থেকে জানতে পারলাম কুঠিরের পেছনে যে পাহাড়ি জঙ্গল আছে গুরু সেখানে আসন করেছেন।

বাচ্চাটাকে নিয়ে গুরুর সামনে রাখলাম,গুরু একবার চোখ তাকিয়ে আবার চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে মন্ত্র জপ শুরু করেছেন, বাচ্চাটি শূণ্যে ভাসছে গুরু মন্ত্র জপ করছেন আর আগুনের ফুলকি ছড়াচ্ছে। তার এমন ভয়ংকর রূপ আমি আগে কখনো দেখিনি। মন্ত্র শেষ হতেই ধারালো বিশাল এক তলোয়ার দিয়ে বাচ্চাটার ঘাড় থেকে মাথা আলাদা করে দেওয়া হলো মানুষের মাথার খুলিতে সেই রক্ত সংগ্রহ করে দেবতাকে তাজা রক্তে স্নান করানো হলো। গুরু চিৎকার দিয়ে বলতে শুরু করেছে আমার সাধনা আজ সফল হবার পথে।

আমি ঈষৎ হেসে গুরু তাহলে কি আজই আমি সিদ্ধি লাভ করতে পারবো? গুরু বাচ্চাটির হৃদপিণ্ড আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে ইশারায় খেতে বললেন। আমি এতোটাই উত্তেজিত ছিলাম যে একবারেই হৃদপিণ্ড গিলে ফেললাম। গুরু মগজ খাওয়া শেষ করতেই আমি বলে উঠলাম গুরু আমার সিদ্ধি লাভ কি আজই হবে? গুরু অট্টহাসি দিতে দিতে বললেন তোমার কি হবে সে তোহ জানি না,আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি। গুরু তার মন্ত্র দিয়ে আমাকে যেনো জিম্মি করে ফেলেছেন আমি নড়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি।

চারিদিক থেকে শতশত আত্মা আমাকে ঘিরে ধরেছে,ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম এরা তারাই যাদেরকে আজ পর্যন্ত আমি খুন করেছি। মনে মনে ভাবলাম তাহলে কি সন্ধ্যার স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে! গুরু আমার সামনে এসে এই দিনটার জন্য আমি আজ পঞ্চাশটা বছর অপেক্ষা করছি,তিনটা বছর ধরে তিলে তিলে তোকে তৈরি করেছি,আজ তার ষোলো আনা পূর্ণ হতে চলেছে। আমি কোনো কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি,গুরু আমার বুকের মাঝ বরাবর চিরে হৃদপিণ্ড টা বের করে নিলো মুহুর্তের মধ্যে আমার চারিপাশে গুমোট হাওয়া আর আত্মার আর্তনাদ ঘিরে ধরলো।আমি মুহূর্তের মধ্যেই হাওয়াই মিলিয়ে গেলাম। (সমাপ্তি)

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার ফেসবুক আইডি থেকে কমেন্ট করুন

উক্ত লেখাটি সোসাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো লেখা
© All rights reserved © 2021 আমাদের ভোলা
Development By MD Rasel Mahmud